ঢাকা,বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

লাগানো হবে ৩ লাখ কেওড়া-বাইন গাছ

চকরিয়ায় উপকূলীয় চিংড়িজোনের সুরক্ষা নিশ্চিতে হচ্ছে টেকসই উন্নয়ন

এম জিয়াবুল হক, চকরিয়া ::. কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার উপকূলীয় অঞ্চলের ৭ হাজার একর সরকারি চিংড়িজোনের মৎস্য সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিতে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে টেকসই উন্নয়ন কাজ। মৎস্য অধিদপ্তরের অর্থবরাদ্দে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সহযোগিতায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইতোমধ্যে উপকূলীয় অঞ্চলের চিংড়িজোনের সংকটাপন্ন এলাকায় সংস্কার করা হচ্ছে ৬৯ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ, খনন করা হচ্ছে ৩৫ কিলোমিটার খাল ও পুরানো অবকাঠামো ভেঙে নতুন করে তৈরি করা হচ্ছে ২৩টি পানি নিষ্কাশনের স্লুইসগেট (জলকপাট)। গতকাল বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারী) সকালে চকরিয়া উপজেলা পরিষদের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সেমিনারে এ তথ্য জানিয়েছেন চকরিয়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসার মো. আনোয়ারুল আমিন। তিনি বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলে বেড়িবাঁধের স্থায়ীত্বও টেকসই করতে এবং ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল তৈরিতে সেখানে ৩ লাখ বাইন কেওড়া গাছ লাগানো হবে। আরণ্যেক ফাউন্ডেশন নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বেড়িবাঁধের কাজ শেষ হলেই গাছ লাগানো শুরু করবে।

সাসটেইনেবল কোস্টাল এন্ড মেরিন ফিশারিজ প্রজেক্ট চট্টগ্রামের সহযোগিতায় চকরিয়া উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর কতৃক আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আতিকুর রহমান।

উপজেলা মেরিন ফিশারিজ অফিসার এজেডএম মোছাদ্দেকুল ইসলামের সঞ্চালনায় সেমিনারে সভাপতিত্ব এবং প্রকল্পের লক্ষ্য উদ্দেশ্য নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চকরিয়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসার মো. আনোয়ারুল আমিন।

সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন কক্সবাজার আঞ্চলিক মৎস্য অধিদপ্তরের সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. এনায়েত রানা, চকরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার এসএম নাছিম হোসেন, উপজেলা প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফা, উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন মোস্তাকিম বিল্লাহ, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন অফিসার শাহাদাত হোসেন।

অনুষ্ঠিত সেমিনারে মুক্ত আলোচনায় বক্তব্য দেন চকরিয়া উপজেলা পরিবেশ সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি সাংবাদিক এমআর মাহমুদ, সাংবাদিক এম জিয়াবুল হক, সাংবাদিক বাপ্পি শাহরিয়ার, চকরিয়া উপজেলা মৎস্য বর্গাচাষী সমিতির সভাপতি ফরিদুল ইসলাম, চিংড়ি চাষি মোহাম্মদ আবু মুছা, ফরিদুল আলম, বাংলাদেশ মৎস্যজীবি জেলে সমিতি কক্সবাজার জেলা কমিটির সভাপতি আশরাফ আলী, চকরিয়া উপজেলা কমিটির সভাপতি রবি জলদাশ প্রমুখ।
এছাড়া সেমিনারে মৎস্য চাষি, ঘের মালিক, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা, ফিশিং বোট মালিক, মৎস্য আড়ত মালিক, স্থানীয় সাংবাদিক ও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট স্টক হোল্ডার।

সেমিনারে প্রধান অতিথি ইউএনও মোহাম্মদ আতিকুর রহমান বলেছেন, চকরিয়া উপজেলার উপকূলীয় অঞ্চলের চিংড়িজোনের মৎস্য সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিতে সরকার মেগাউন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছেন। চলমান উন্নয়ন কাজ তথা বেড়িবাঁধ সংস্কার, খাল খনন ও পুরানো অবকাঠামো ভেঙে নতুন করে তৈরি করা স্লুইসগেট সমুহের সুফল ভোগ করবে চকরিয়া উপজেলার হাজার হাজার ঘের মালিক চাষিরা।

তিনি বলেন, উপকুলের রক্ষাকবচ বেড়িবাঁধ সংস্কার থেকে সব উন্নয়ন কাজে গুনমান নিশ্চিত করতে হবে। যাতে করে স্থাপিত অবকাঠামো সমুহ দীর্ঘমেয়াদি স্থায়ীত্ব হয়। এইজন্য সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের নজরদারি বাড়াতে হবে। তিনি বলেন, চিংড়িজোনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে প্রশাসনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সকল স্টক হোল্ডার সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে। এখানকার নৈরাজ্যকর অবস্থা থেকে কীভাবে চিংড়ি ঘের মালিক চাষিদের সুরক্ষা করা যায় এবং নিরাপদ পরিবেশে মৎস্য চাষ করা যায়, সেইজন্য উপায় বের করতে হবে।

ইউএনও মোহাম্মদ আতিকুর রহমান বলেন, উপকুলে বাইন কেওড়া গাছ লাগালে হবে না, আগে নিশ্চিত করতে হবে গাছ লাগানোর পর কীভাবে সেগুলো পরিচর্যা করা যায়। এখানে ঘের মালিক ও চাষিরা আন্তরিক হলে উপকুলে ৩ লাখ গাছের চারা রোপণ করা নিরাপদ হবে।

পাঠকের মতামত: